ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ || ৩ শ্রাবণ ১৪২৬
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন
১৮

সুন্দর ও সমৃদ্ধ ধরিত্রী গড়ে তোলায় সহায়ক হবে

প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০১৯  


ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মলনে টেকসই উন্নয়নমূলক বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে পাঁচটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চীনের ডালিয়ানে চলমান ওই সভায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় সহযোগী দেশগুলোকে আরও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্যের তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিক হল- আমরা মাঝে মধ্যে শুধু কয়েকটি বৃহৎ অর্থনীতির সক্ষমতা কিংবা তাদের প্রয়োজনের আঙ্গিকেই সবকিছু দেখি। কিন্তু টেকসই বিশ্বের জন্য আমাদের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীসমূহের অথবা দুর্বল অর্থনীতিগুলোর মূল উদ্বেগ নিরসনের উপায়ও বের করতে হবে। নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে প্রধানমন্ত্রীর করা উক্তিটি বিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলো এগিয়ে এলে গোটা বিশ্বের জন্যই তা কল্যাণকর হবে। প্রধানমন্ত্রী যে পাঁচটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন তা হল- দেশগুলোর মধ্যে পরস্পর শান্তি-সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি, টেকসই উন্নয়নের সবদিকে দৃষ্টি দেয়া, দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা, সবার জন্য সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে সার্বিক উন্নয়ন করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা। দেখার বিষয়, একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও সব দেশের স্বার্থ, অর্থনৈতিক মুক্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুমধুর বাণী তুলে ধরেছেন শেখ হাসিনা। কর্তৃপক্ষ তো বটেই, বর্তমানে হানাহানি ও প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব বেড়ে যাওয়ার যুগে তার বক্তব্য আমলে নেয়ার বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নিজেদের উন্নতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যই হয়ে পড়েছে ব্যক্তি, দেশ ও সংস্থা- সবার মূল চাওয়া। কিন্তু এ চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে তুলনামূলক দুর্বল, পিছিয়ে পড়া দেশ ও জনগোষ্ঠী যাতে ক্ষতির শিকার না হয়, গরিব যেন আরও গরিব হয়ে না পড়ে; বরং সুষম উন্নয়নের অংশীদার হয় তা নিশ্চিত করা সবার, বিশেষত ধনী দেশগুলোর নৈতিক দায়িত্ব। কেবল নিজেদের সক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে সবার সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে টেকসই বিশ্ব নিশ্চিত করার কথাটিই ডব্লিউইএফের সম্মেলনে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। শিল্পোন্নত ও আর্থিকভাবে সক্ষম দেশগুলো যদি এটি আমলে নেয় তবে টেকসই উন্নয়নমূলক সমৃদ্ধ একটি পৃথিবী গড়ে তোলা অসম্ভব নয়। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে আণবিক অস্ত্রের ধ্বংসাত্মক হুমকির মুখে পৃথিবীকে ফেলার পেছনের নাটের গুরু কিন্তু তারাই। ডালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ‘কো-অপারেশন ইন দ্য প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগী হিসেবে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও জাপানকে বৃহত্তর বিনিয়োগের সহযোগী হিসেবে তুলে ধরে তাদের কাছে আরও বেশি করে সহায়তা চেয়েছেন। নিজেদের বিনিয়োগের স্বার্থে দেশগুলো এতে ভালো সাড়া দেবে বলে আমরা আশাবাদী। পদ্মা সেতুর মতো বড় ধরনের স্থাপনা আমরা নিজেদের অর্থায়নে বিদেশি সহযোগীদের কারিগরি সহায়তায় এগিয়ে নিতে পারছি। বিষয়টি আমাদের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি অন্যদের জন্য বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার উদাহরণ বৈকি। যেহেতু বর্তমানে কোনো দেশই এককভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, সেহেতু পারস্পরিক সহায়তায় সুন্দর, সমৃদ্ধ ধরিত্রী গড়ে তোলাই হতে হবে লক্ষ্য।


এই বিভাগের আরো খবর