তিনি রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী। অথচ মাস খানেক আগেই তাঁর নাম জড়িয়েছে সমবায় কেলেঙ্কারিতে। অবশ্য সমবায় দুর্নীতি নিয়ে কোনও কথা বলতে নারাজ এগরা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সমরেশ দাস।

অন্যজন বামপন্থী ছেড়ে ডানপন্থী রাজনীতিতে এসেছিলেন। প্রথমে কংগ্রেস এবং পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস ছেড়ে অধিকারী পরিবারের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দেন। পেয়েছিলেন  দলের এবং ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পেয়েছিলেন। কিন্তু এই দুর্নীতির অভিযোগ তুলেই ছেড়েছেন তৃণমূল আর প্রার্থী হয়েছেন বাম শিবিরের। তিনি মামুদ হোসেন। দলের প্রার্থী ঘোষণার আগে পর্যন্ত তিনি তৃণমূল পরিচালিত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। তাছাড়াও জেলার বিভিন্ন সরকারি পদে তিনি ছিলেন। সে সব পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর স্ত্রী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

সদ্য তৃণমূল শিবির ছেড়ে আসা মামুদ হোসেন দুর্নীতি থেকে অনুন্নয়ন ইস্যুতে প্রচারে চাপে ফেলে দিয়েছে শাসকদলকে। মামুদ হোসেন বিভিন্ন সভা সমিতিতে গিয়ে বলছেন, ‘‘গত দু’বছর ধরে জেলায় তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং অধিকারী পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমি সরব হয়েছি। কাজ না হওয়ায় সেই দল ছেড়ে আমি ডিএসপিতে যোগ দিয়েছি।’’ তাঁর দাবি, ‘‘লোকজন ‘পদের’ লোভে নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে অন্য দলে যোগ দেয়। আর আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পদ ছেড়ে ডিএসপিতে যোগ দিয়েছি।”

এগরার তৃণমূল প্রার্থী সমরেশ দাসও এক সময় বামপন্থী রাজনীতি করতেন। তিনিও অধিকারী পরিবারের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। যদিও মামুদ সাহবের অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তমলুকের সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী।

সারদা থেকে শুরু করে নারদা ইস্যুতে এমনিতে নাজেহাল অবস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের। রাজ্যের সর্বত্রই সে সবের উত্তর দিতে হচ্ছে স্বয়ং দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে। এবার সেই আগুনে ঘি দিয়েছে এগরা বিধানসভা এলাকায় সমবায় ব্যাঙ্কের কেলেঙ্কারি।

এগরা বিদায়ী বিধায়ক তথা এগরার এবারের প্রার্থী তৃণমূলের সমরেশ দাস বলাগেড়িয়া সেন্ট্রাল কো অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান। অভিযোগ এই সমবায় ব্যাঙ্কের মাধ্যমে তিনি কয়েক কোটি টাকা তছনছ করেছেন। তাছাড়াও সমরেশবাবুর ছেলে পার্থসারথী দাসও এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। এবিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা হয়েছিল।সেই মামলায় সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য রেজিস্ট্রার অফ কো অপারেটিভ সোসাইটিকে সমরেশবাবুর বিরুদ্ধে তদন্ত করে তিন মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই নির্দেশের পর বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী মামুদ হোসেন সারদা নারদার পাশাপাশি সমবায় ব্যাঙ্কের দুর্নীতি ইস্যুতে সরব হয়েছেন। প্রচারে বেরিয়ে সারদা নারদা ইস্যুর পাশাপাশি সমবায় ব্যাঙ্কের দুর্নীতি ইস্যুও তুলে ধরছেন তিনি। বিষয়টিকে গেঁথে মামুদ হোসেনের দাবি, ‘‘জনগণের টাকা তছনছ করতে তৃণমূলের নেতারা সিদ্ধহস্ত। তাই ওই দল ছেড়ে তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছি।’’


সবিস্তার দেখতে ক্লিক করুন

আর পাঁচ বছরে উন্নয়নের বন্যার দাবি তুলেছে ভোট প্রচারে বেরোচ্ছেন  সমরেশ দাস। তৃণমূলের এই প্রার্থীর কথায়, ‘‘এগরার যা কিছু উন্নয়ন আমাদের আমলে হয়েছে। বিরোধীরা ঠুলি পরে বসে বিরোধীরা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছেন।’’ একই সঙ্গে তাঁর দাবি, সমবায়ে দুর্নীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত নন।

তবে মামুদ হোসেনের এই দল ছাড়াটাকে এলাকার বাসিন্দারা ভালভাবে দেখেনি বলেই জিগির তুলছে শাসকদল। কেউ কেউ বলছেন দলের টিকিট না পেয়ে বিধায়ক হওয়ার লোভে দল ছেড়েছেন।  

অঙ্কের হিসেব বলছে, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও তৃণমূলের জোট প্রার্থী হিসাবে সমরেশ দাস ১৫হাজার ৯৫৩ ভোটে হারিয়েছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএসপির হৃষিকেশ পড়্যাকে। আর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এগরা বিধানসভা কেন্দ্রে অবশ্য প্রায় ৬ শতাংশ ভোট কমেছে। তাহলে কি এ বার বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে?

উত্তরটা জানা যাবে ১৯ তারিখের পরই।