ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ || ৩ শ্রাবণ ১৪২৬
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন
১৪৭

শান্ত নগর যখন, শব্দদূষণের .......

প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর ২০১৮  


শুক্রবার দুপুর সোয়া দুইটা। রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকার গণপাড়া মোড়ে মাইকযোগে প্রচারণা চালানো হচ্ছে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে। তার পাশেই আরেকটি অটোরিকশায় মাইকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে ধানের শীষের। সেখান থেকে একটি দূরে গিয়ে বিস্কুট বিপনীর সামনে নৌকা প্রতীকে ভোটে চেয়ে আরেকটি অটোরিকশায় মাইকযোগে প্রচারণা চলছে। সেখান থেকে কয়েক ধাপ দূরেই জিরোপয়েন্টে রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সামনে দুটি মাইকে বাজছে নৌকা প্রতীকের গান ও ভোট দেওয়ার আহ্বান। সেখান আর কয়েক হাত দূরেই একেবারে জিরোপয়েন্টে পাশাপাশি আরো দুটি অটোরিকশার একটিতে ধানের শীষ আরেকটি নৌকার প্রচারণা চলছে। জিরোপয়েন্ট থেকে একটু পশ্চিম দিকে আরডিএ মার্কেটের সামনে আরেকটি মাইকে ধানের শীষের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এভাবে রাজশাহীর সাহেব বাজার কেন্দ্রেীক অন্তত ১০টি মাইক বাজছে দুপুরে দুইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। গত ১০ ডিসেম্বর থেকে প্রতিদিন এভাবে সাহেব বাজার এলাকায় বাজছে নৌকা ও ধানের শীষের প্রচারণা মাইক। এর বাইরে নগরীতে সবমিলিয়ে অন্তত দেড়শটি মাইক বাচছে ভোট চেয়ে। এতে করে গোটা নগরী যেন শব্দদূষণের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

সাহেব বাজার এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী এমরান আলী বলেন, কখনো কখনো একই স্থানে একই সাথে চারটি-পাঁচটি করে মাইক বাজানো হচ্ছে। বিভিন্ন গানের সঙ্গে প্রতীক উল্লেখ করে ভোট চাওয়া এসব মাইকের যন্ত্রণায় পথচারীরা ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না। বিশেষ করে রাস্তায় বের হলে কোনো পথচারী মোবাইল ফোনে ঠিকমতো কথা বলতেও পারছেন না আবার শুনতেও পারছেন না। আবার রাস্তার ধারে দোকান হওয়ায় খদ্দেরদের কথাও ঠিকমতো শোনা যাচ্ছে না মাইকের শব্দে।

নগরীর সোনাদিঘী মোড় এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী রুপম হোসেন বলেন, ‘দোকানে থাই গ্লাস গ্লাস লাগানো আছে। কিন্তু তার পরেও খদ্দেররা এসে ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না বা আমরা তাদের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পারছি না মাইকের শব্দে। আর মোবাইল ফোনে তো কথা বলাও যাচ্ছে না, শোনাও যাচ্ছে। কথা বলতে হলে দূরে বাজারের ভিতরে গলির মধ্যে কোথাও গিয়ে কথা বলতে হচ্ছে।’

দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর জিরোপয়েন্টে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন, ‘৩০-৩২ বছরের এক যুবক। প্রায় চিৎকার দিয়ে হ্যালো হ্যালো করছিলেন তিনি। আর বলছিলেন, কিছু শোনা যাচ্ছে না মাইকের শব্দে। পরে কথা বলছি। এরপর ফোনটি কেটে দিলেন তিনি।

কাছে গিয়ে কথা হয় ওই যুবকের সঙ্গে। তিনি বলেন, এটা কোনো প্রচারণা হলো। যারা ভোট যাকে দিবেন, সেটি তো মনের ব্যাপার। এভাবে তীব্র শব্দে মাইক বাজিয়ে শব্দদূষণ করে কী ভোট পাওয়া যাবে। নাকি মানুষ ভোট দিবে। এতে মানুষ তো আরো বিরক্ত হচ্ছে। মানুষের সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে মাইকের এ প্রচারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম আব্দুল কাদের বলেন, ‘কতটা মাইক প্রার্থীরা ব্যবহার করবেন, তার কোনো নির্দেশনা নাই। তবে একসঙ্গে দুটি হর্ণ রাখা যাবে না। এই ধরনের নির্দেশনা আছে। এই ধরনের অভিযোগ পেলে আ,রা আইনগত ব্যবস্থা নিব।’   collected from silkcitynews.com