ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ || ৫ পৌষ ১৪২৫
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন
১৩

রাজশাহী অঞ্চলে ‘টার্গেট কিলিং’ আতঙ্ক আ.লীগে

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০১৮  


পর নওগাঁজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মাঝে। তারা এসব ঘটনাকে নির্বাচনপূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছেন। পেশাদার অপরাধীদের ব্যাপারে পুলিশের অমনোযোগিতার কারণেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক খুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত কিনা জানতে চাইলে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারাই অপরাধী, যে পক্ষেরই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অপরাধীদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিতে পুলিশ কাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর সকালে নাটোরের নর্থবেঙ্গল সুগার মিলস গেটে লালপুর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহারুল ইসলামকে পায়ের রগ কেটে খুন করে একদল সন্ত্রাসী। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, খুনের আগে জাহারুলকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। ৪ ডিসেম্বর দুপুরে নাটোর শহরের বড়গাছা এলাকায় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ কর্মী রুবেলকে ছুরিকাঘাত করে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে নাটোর এনএস সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আলম রিয়নের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। গুরুতর আহত রিয়নসহ তিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে ১ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে খুন হন তাহেরপুর পৌর যুবলীগের সহ-সভাপতি চঞ্চল কুমার। অন্যদিকে ৩ ডিসেম্বর পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল গুলি বিনিময়ের মধ্যে ভাউডাঙ্গা গ্রামের লস্কর খাঁও আব্দুল মালেক শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, দু’ক্ষই এই সংঘর্ষে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। এখানে পুলিশ আসে ঘটনা শেষ হওয়ার পর। ভাঁড়ারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আক্কাস ও সুলতান গ্রুপের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। দু’পক্ষই নিজেদের শক্তি বাড়াতে বহিরাগত সন্ত্রাসী ও আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ করছিল। এই খবর পুলিশের কাছেও ছিল কিন্তু পুলিশ সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষে প্রাণ হারায় দু’জন। এদিকে পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইসাহাক হোসেন নিহত হওয়ার পর এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসাহাক হোসেনের মতো বড় নেতার খুন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত বহন করে কিনা জানতে চাইলে নওগাঁ পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, যে কোনো হত্যাকাণ্ডই আইনশৃঙ্খলার জন্য খারাপ। তবে এজন্য বলা যাবে না আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ইসাহাক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। সূত্র- যুগান্তর


এই বিভাগের আরো খবর