ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ || ৩ শ্রাবণ ১৪২৬
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন
১৩

যারা ঐক্যের বাইরে কথা বলবেন তারা দেশের ক্ষতি করবেন

প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০১৯  


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে এখন ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। এখন যারা ঐক্যের বাইরে কথা বলবেন তারা আসলে ক্ষতি করবেন দেশের, দেশের মানুষের। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে গণআন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এগিয়ে আসতে হবে। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বৃহস্পতিবার ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা থাকলে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকবে না। দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার জন্য তিনি তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাবনার ঈশ্বরদীতে ট্রেনে গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা মামলার রায় প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের গোলাগুলিতেই ২৪ বছর আগে পাবনার ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলি লেগেছিল। গুলি ছুড়েছে আওয়ামী লীগ, আর ফাঁসি হল বিএনপি নেতাদের। ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতের দেয়া ফাঁসির আদেশে আমরা শুধু হতাশই নয়, ক্ষুব্ধও। এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এদেশে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ রায়ে জাতি বিস্মিত। এটা কোন ধরনের রায়? দুটো গুলির শব্দ হয়েছে। কারা করেছে, কে করেছে গুলি, সেটা বিতর্কিত। ৯ জনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। ২৫ জনকে যাবজ্জীবন। দেশে বিচারিক অরাজকতা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটা অর্থনীতি ফোরামের দাওয়াতে গেছেন। চীন সরকারের দাওয়াতে যাননি। আমরা খুব খুশি হতাম, তিনি যদি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসে কথা বলতেন। কিন্তু তিনি তা করছেন না। তিনি চুক্তি করেছেন মেগা প্রজেট, মেগা দুর্নীতির চুক্তি। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা সব সময় বলেন, বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে। তারা ক্যান্টনমেন্টের দল। কিন্তু তারা একবারও বলেন না এরশাদের আমলে দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন, এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যে যাবে সে হবে জাতীয় বেইমান। অথচ কয়েকদিন পরে তিনি নিজেই এরশাদের অধীনে নির্বাচনে গেছেন। আমরা এগুলো ভুলে যাইনি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া প্রতিটি সময়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। এখনও তিনি তা করে যাচ্ছেন। এখন যে কারাগারে আছেন, এটাও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই। খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের মামলায় সবাই জামিন পান। শুধু খালেদা জিয়া জামিন পাচ্ছেন না। এ ধরনের মামলায় জামিন পাওয়ার উদাহরণ আমাদের সামনেই আছে। নাজমুল হুদা, মোফাজ্জল হোসেন মায়া, মহীউদ্দীন খান আলমগীর জামিন পেয়েছেন। খালেদা জিয়ার জামিন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আর কোনো আস্থা নেই। একটা নির্বাচনও তারা সুষ্ঠু করতে পারেনি। ড্যাবের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ড্যাবের সদস্য সচিব ডা. ওবায়দুল কবির খান, ড্যাবের নবনির্বাচিত সভাপতি হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. মেহেদী হাসান, কোষাধ্যক্ষ ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।


এই বিভাগের আরো খবর