ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ || ৫ পৌষ ১৪২৫
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন

মডরিচের স্বপ্নের ২০১৮

প্রকাশিত: ৫ ডিসেম্বর ২০১৮  


ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক মডরিচ এ বছর ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের তিনটি পুরস্কারই জিতলেন। উয়েফার বর্ষসেরা, ফিফা দ্য বেস্ট এবং সব শেষ ব্যালন ডি’অর। ১৭৬ জন সাংবাদিকের ভোটে চূড়ান্ত হয় এবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী। প্রত্যেক সাংবাদিককে বলা হয়েছিল তাঁদের চোখে ২০১৮ সালের সেরা পাঁচ ফুটবলারের নাম জানাতে। তাঁদের র‌্যাংকিং অনুযায়ী পয়েন্ট ছিল যথাক্রমে ৫, ৪, ৩, ২ ও ১। ৭৫৩ পয়েন্ট পেয়ে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন মডরিচ। ৪৭৮ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ৪১৪ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় গ্রিয়েজমান, ৩৪৭ পয়েন্ট পেয়ে চতুর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পে আর ২৮০ পয়েন্ট পেয়ে লিওনেল মেসি হয়েছেন পঞ্চম। পুরস্কার পেয়ে মঞ্চে উঠে ভাষণ দেওয়াটা রপ্ত হয়ে গেছে মডরিচের। অসাধারণ একটা বছর কাটানোর পর ব্যালন ডি’অর হাতে পেয়ে মডরিচ জানালেন, ‘২০১৮ আমার জন্য স্বপ্নের একটা বছর। ক্যারিয়ার জুড়েই আমি পরিশ্রম আর অধ্যবসায়কেই একমাত্র অবলম্বন ভেবে এসেছি। কঠিন সময়ে ভরসা রেখেছি নিজের ওপর। এসবই সাফল্যের ভিতটা গড়ে দেয়।’ প্রথম ক্রোয়াট ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জেতা মডরিচ এভাবে জানিয়েছেন তাঁর অনুভূতি, ‘বাচ্চা অবস্থায় আমাদের সবারই স্বপ্ন থাকে। আমার স্বপ্ন ছিল বড় কোনো দলে খেলা আর গুরুত্বপূর্ণ সব শিরোপা জেতা।’ সাবেক ফরাসি ফুটবলার দাভিদ জিনোলার হাত থেকে পুরস্কারটা নেওয়ার পর মডরিচ বলেন, ‘ব্যালন ডি’অর জেতাটা আমার জন্য স্বপ্নপূরণের চেয়েও বেশি কিছু। এই পুরস্কারটা হাতে ধরতে পারাটা সত্যিই অনেক গৌরবের আর সম্মানের। এটা জাভি-ইনিয়েস্তাদের মতো খেলোয়াড়দের জন্য, যাঁরা পুরষ্কারটা জিততে পারত কিন্তু পাননি। এটা ফুটবলের জয়।’ ক্যারিয়ারটা মাদ্রিদেই শেষ করার ঘোষণা ব্যালন ডি’অরের মঞ্চ থেকেই দিলেন মডরিচ, ‘মাদ্রিদের সঙ্গে আমার চুক্তিটা আর বছর দুয়েক আছে (২০২০ সালের জুন পর্যন্ত), আশা করছি তারা হয়তো আমাকে আরেকটু সময় দেবে। আমি মাদ্রিদ থেকেই অবসরে যেতে চাই।’ একই অনুষ্ঠানে, রেমন্ড কোপা পুরস্কার পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২১ বছরের কম বয়সের সেরা ফুটবলারের জন্য এই পুরস্কার। আনুষ্ঠানিক পুরস্কার ঘোষণার আগেই আঁচ করা গিয়েছিল কে হবেন বিজয়ী। চলতি বছরের উয়েফা বর্ষসেরা আর ফিফার দ্য বেস্ট জয়ীর হাতেই যে উঠবে ব্যালন ডি’অর, এমনটাই ভেবেছিলেন অনেকে। যে কারণে আগেই আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান জানিয়েছেন, ‘দুঃখ এটাই যে একজন ফরাসি বিশ্বকাপ জয়ের বছরেও পুরস্কারটা পেল না। হয়তো ইউরোপিয়ান কাপটা বিশ্বকাপের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমরাও দেখব।’ তবে নগর প্রতিপক্ষ দলের মাঝমাঠের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়টিকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি গ্রিয়েজমান, ‘মডরিচকে অভিনন্দন জানাই। অসাধারণ একটা বছর গেছে তার। আমিও ব্যালন ডি’অর জিততে চাই, হয়তো আগামী বছর!’ব্যালন ডি’অরের মঞ্চ ছাড়তে হয়েছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসিকে। বছরের বাকি দুটো ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কারেই বোঝা গিয়েছিল, ছেদ পড়ছে রোনালদো-মেসি সাম্রাজ্যে! মেসির পরিবারের কাউকে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি বটে, তবে রোনালদোর বোন এলমা এভারিওর কণ্ঠে উষ্মা, ‘দুর্ভাগ্য এই যে আমাদের এই পৃথিবীটা এখন দুর্নীতি আর কালো টাকার জোরে চলে। ঈশ্বর হয়তো সময় নেন, তবে তিনি কাউকে বঞ্চিত করেন না।’ এবারই প্রথম চালু করা হয়েছে মেয়েদের জন্য ‘ব্যালন ডি’অর ফেমিনিন’। ফরাসি ফুটবল ক্লাব লিওঁর মহিলা দলের স্ট্রাইকার আডা হেগারবার্গ পেয়েছেন মেয়েদের প্রথম ব্যালন ডি’অর। নরওয়ে জাতীয় দলের এই তারকাকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য মঞ্চে ডাকার পর সহ-উপস্থাপক মার্টিন সলভিগ তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমি কি টুইর্ক নাচতে পারো?’ অমন প্রশ্নের পর টুইটারে নিন্দার ঝড় ওঠে, যে কারণে পরে ক্ষমা চেয়েছেন এই ফরাসি ডিজে। ২০০৬ সালের পর এবারই প্রথম ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ তিনেই ছিলেন না মেসি। মাত্র ২৮০ পয়েন্ট নিয়ে মেসি যে ছিলেন পাঁচে! বিবিসি, মার্কা