ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ || ৫ পৌষ ১৪২৫
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন

বাংলাদেশ উন্নয়নের মডেল কি ফাঁকা বুলি?

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  


অবস্থা দেখে নিতে পারি। তবে যেহেতু এটা অর্থনীতির একটা বিষয় তাই আসুন আমজনতার মতো করে একটু অর্থনীতির কিছু কথা জেনে-বুঝে নিই।  দেশের উন্নতি মানে সেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা বিভিন্ন ধরণের শিল্পের বিকাশ। কোন দেশের উন্নতি হতে থাকলে সেই দেশের শিল্প তার ধরণ বা স্তর বদলায়। উন্নত দেশের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, শিল্পের প্রাথমিক স্তর মানে বৃহত্তর কৃষি খাতের বিকাশ হওয়া। যেখানে প্রাচীন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়। উৎপাদিত পণ্যের যোগান পেয়ে সেই দেশে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। একই সাথে কৃষি খাত ধাবিত হতে থাকে ম্যাকানাইজড, সেমি ইন্টেনসিভ, ইন্টেনসিভ, ইত্যাদি স্তরে। ফলে কৃষিখাতে শ্রমিকের চাহিদা কমতে থাকে। সেইসব শ্রমিক চলে আসে সংশ্লিষ্ট শিল্প কারখানায় কাজের জন্য। শুরু হয় দ্বিতীয় স্তরের শিল্পের সার্বিক বিকাশ। কারণ সব দেশেই শিল্পের প্রতিষ্ঠা আর বিকাশে লাগে জমি, মানব সম্পদ, মূলধন আর ভালো উদ্যোক্তা। একদিকে যখন একেকটি স্তরের শিল্পের বিকাশ হতে থাকে আর তার পাশাপাশি গড়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ আর ফরওয়ার্ড লিংকেজ কোম্পানি। এর পাশাপাশি বিকাশ লাভ করে সেবা খাত অর্থাৎ ব্যাংক, বীমা, পরিবহণ, কম্পিউটিং বা হালের আইটি, নানা ধরণের কনসালটেন্সি; এমনকি রাজনৈতিক কনসালটেন্সিও বাদ যায় না। যে দেশ যত উন্নতির দিকে ধাবিত হয় সেই দেশের কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ততো কমতে থাকে আর শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকে। দেশের বিকশিত শিল্প যখন অন্য দেশের সাথে প্রতিযোগিতায় পড়ে যায় তখন তারা বিকল্প হিসেবে সেবা খাতের দিকে ঝুঁকে যায়, শিল্প খাতের জিডিপি কমতে থাকে। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ মানেই সেই দেশের কৃষি ও শিল্পখাতের জিডিপি ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে আর সেবা খাত হবে শক্তিশালী।  সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থান কোথায় তা আমেরিকার সিআইএ’র লাইব্রেরি প্রকাশনা থেকে ২০১৬ ও ২০১৭ সালের আমাদের খুব পরিচিত কয়েকটি দেশের জিডিপির বিভাগ ওয়ারী (এস্টিমেটেড) গঠন বা কম্পোজিশন দেখে নিই একবার।  ভারত (২০১৬) কৃষিঃ ১৫.৪%, শিল্পঃ ২৩%, সেবা খাতঃ ৬১.৫%। পাকিস্তান-কৃষিঃ ২৪.৪% (২০১৬), শিল্পঃ ১৯.১% (২০১৬), সেবা খাতঃ ৫৬.৫% (২০১৭)। সিঙ্গাপুর(২০১৭) কৃষিঃ ০%, শিল্পঃ ২৪.৮%, সেবা খাতঃ ৭৫.২%। বাংলাদেশ (২০১৭) কৃষিঃ ১৪.২%, শিল্পঃ ২৯.৩%, সেবা খাতঃ ৫৬.৫%। জাপান (২০১৭)কৃষিঃ ১.১%, শিল্পঃ ৩০.১%, সেবা খাতঃ ৬৮.৭%। চীন (২০১৭)কৃষিঃ ৭.৯%, শিল্পঃ ৪০.৫%, সেবা খাতঃ ৫১.৬%।যুক্তরাজ্য (২০১৭)কৃষিঃ ০.৭%, শিল্পঃ ২০.২%, সেবা খাতঃ ৭৯.২%। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (২০১৭)কৃষিঃ ০.৯%, শিল্পঃ ১৯.১%, সেবা খাতঃ ৮০%। জার্মানি (২০১৭) কৃষিঃ ০.৭%, শিল্পঃ ৩০.৭%, সেবা খাতঃ ৬৮%। কানাডা(২০১৭), কৃষিঃ ১.৬%, শিল্পঃ ২৮.২%, সেবা খাতঃ ৭০.২%। অস্ট্রেলিয়া (২০১৭) কৃষিঃ ৩.৬%, শিল্পঃ ২৫.৩%, সেবা খাতঃ ৭১.২%। উপরের তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যা, বাংলাদেশর শিল্প খাতের জিডিপি ভারত পাকিস্তানের চেয়ে বেশি, কিন্তু সেবা খাতে ভারতের চেয়ে কম। অপরদিকে সেবা খাতে চীনের থেকে অনেকটা এগিয়ে, যদিও শিল্পে অনেক পিছিয়ে। তবে অনেক দেশ কৃষি বাদেই গিয়ে সামান্য কিছু শিল্প আর সেবা খাত দিয়েই অর্থনৈতিকভাবে উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে, তার প্রমাণ সিঙ্গাপুর। ইন্টারনেট, কম্পিউটার আর মোবাইল ফোনের কল্যাণে বাংলাদেশে তথ্য প্রবাহের তথা সেবা খাতের যে ধারা চলমান, তাতে শিল্পখাতের পরিপূর্ণ বিকাশ ছাড়াই জাম্প করে বাংলাদেশের সেবা খাত এগিয়ে যেতেও পারে। সৃষ্টি করতে পারে উন্নয়নের নতুন মডেল বা ধারা। তাই অনেক দেশ, সংস্থা বাংলাদেশকে উন্নয়নের নতুন মডেল হিসেবে ভাবছে। সেকারণেই বাংলাদেশ যে এগুচ্ছে খুব দ্রুত গতিতে তাতে সন্দেহ করার অবকাশ আর নেই। লেখক: উন্নয়নকর্মী


এই বিভাগের আরো খবর