ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ || ৩ শ্রাবণ ১৪২৬
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন
৭৩৭

প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থায়ন অসম্ভব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০১৪  


২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থায়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে যে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে তা খরচ করাও সম্ভব হবে না।’

রোববার জতীয় প্রেসক্লাবে ‘২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট: প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে কী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএ তাসনিম, বিজনেস ফর পিচ পুরস্কারপ্রাপ্ত উইমেন চেম্বারের সভাপতি সেলিমা আহমেদ, সাবেক সচিব ফারুক আহম্মেদ সিদ্দিকী, সিপিডির সহকারী গবেষক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ইফাদ গ্রুপের পরিচালক তাসমিন আহমেদ প্রমুখ।

ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৩-১৪ অর্থবছরে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনী বাজেটে এর পরিমাণ নির্ধারিত হয় ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা। তবে বাস্তবে আয় অনেক কম হবে। এ আয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। আবার ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। যা আদায় করা বাস্তবসম্মত নয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। ঘাটতি পূরণে সরকার  বৈদেশিক ঋণ বাবদ ১৮ হাজার ৬৯ কোটি টাকা, বৈদেশিক অনুদান বাবদ ৬ হাজার ২০৬ কোটি টাকা ধরেছে। তবে তা বাস্তব ভিত্তিক নয়। কারণ পূর্বের তথ্যে তা প্রমাণিত হয় না।’

২০১২-১৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ৪৯ হাজার কোটি টাকার বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সংশোধীত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৬০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু গত দশ মাসে বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ৩৬ হাজার কোটি টাকা। বছর শেষে তা বড়জোর ৫৩ থেকে ৫৪ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

এ থেকে বলা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে যে এডিপির লক্ষ্যমাত্রা ৮০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে তা বাস্তবসম্মত নয়।

‘প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বাজারে টাকার সরবারহ বেড়ে যায়, যার কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার অশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতির নির্ধারিত কোনো লক্ষ্যমাত্রা দেননি।’ বললেন এ অর্থনীতিবিদ।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বলেন, ‘প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতে তা সম্ভব নয়। এ জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘হল-মার্কসহ বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঋণ জালিয়াতির পর ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে দীর্ষসুত্রীতা বেড়ে গেছে। যার কারণে আগের মতো আর ঋণের আবেদন আসছে না।’ এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠার জন্য প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএ তাসনিম বলেন, ‘দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে ২০১০ সাল থেকে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ২০১০ সালে শেয়ারবাজার ধস। এরপর ২০১১-১২ সাল আগ্রাশন এবং ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতি। এসব অনিয়মের প্রধান কারণ হচ্ছে প্রসাশনিক অদক্ষতা।’

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমানোর সমালোচনা করে এমএ তাসনিম বলেন, ‘দেশের প্রধান অগ্রাধিকার খাত হচ্ছে শিক্ষাখত। এ খাতে বরাদ্দ কমিয়েছে সরকার। এটা ঠিক করেনি। দেশের জনগণের দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিৎ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট বাজেটের গতবারের ২৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২১ শতাংশ করা হয়েছে।’

মেঘ


এই বিভাগের আরো খবর