ঢাকা, ২৫ মার্চ, ২০১৯ || ১০ চৈত্র ১৪২৫
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন
১৪

প্রকল্প থেকে বাদ যাচ্ছে ৬০৫ কোটি টাকা

প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারি ২০১৯  


 ইয়েনের (জাপানি মুদ্রা) বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে প্রকল্প থেকে কমে যাচ্ছে ৬০৫ কোটি টাকা। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৈদেশিক সহায়তা না পাওয়ায় সংশোধন করা হচ্ছে প্রকল্পটি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়িত ‘নর্দার্ন বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট’ নামের প্রকল্পের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) সহায়তা থেকে ৬০৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা কমিয়ে মোট ব্যয় ধরেছে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে বাড়ছে প্রকল্পটির মেয়াদও। চলতি বছরের জুনে বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দু’বছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে এর মেয়াদ। এ বিষয়ে আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান। পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম প্রধান মো. মনজুরুল আনোয়ার স্বাক্ষরিত পিইসি সভার জন্য তৈরি করা কার্যপত্রে বলা হয়, টাকা-ইয়েন বিনিময় হারের কারণে প্রকল্প সাহায্য হ্রাস, এজিইডি রেট সিডিউল পরিবর্তন, উপজেলা সড়ক পুনর্বাসন ও সড়ক সংক্রান্ত কাজের স্কোপ বেড়ে যাওয়া এবং প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটির সংশোধন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অগ্রগতিও কাক্সিক্ষত নয়। এ ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্পের মেয়াদ ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও গত অক্টোবর পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৩ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১৮১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৪৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নর্দার্ন বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পটি ২০১৩ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সালের ৫ মার্চ অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৪টি জেলায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। কিন্তু প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের প্রতিটি ধাপে জাইকার পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মামলা সংক্রান্ত জটিলতা, সিপিটিইউর রিভিউ প্যানেলের দুই বার পুনর্মূল্যায়নের কারণে কনসালটেন্ট ফার্ম নিয়োগে দেরি হওয়া, প্রকল্পভুক্ত ১৮টি পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আরবান গভর্নেন্স ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাকশন প্রোগ্রাম কার্যক্রম মিউনিসিপ্যাল পারফরমেন্স রিভিউ কমিটির মূল্যায়নের পর তৃতীয় পর্যায়ে বরাদ্দের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের ভৌত কার্যক্রম দেরিতে শুরু হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন দেরি হয়েছে। এরই মধ্যে মূল অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী ১ ইয়েন সমান ১ টাকা ৩ পয়সা ধরা হয়েছিল কিন্তু সেটি এখন কমে ১ ইয়েন সমান ৭৮ পয়সা হয়েছে। ফলে বড় অঙ্কের অর্থ কমে যাচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এর আগে ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর অ্যাপ্রেইজাল সভা। ওই সভায় প্রকল্পের অগ্রগতি কম হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলা হয়েছিল এত কম অগ্রগতি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে এরকম ধীরগতি কিছুতেই কাম্য নয়। এ ছাড়া প্রকল্প ব্যয় কমে যাওয়ায় প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের আগেই সমাপ্ত করা সম্ভব ছিল। সভায় আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই সম্পন্ন কাজের পরিমাণ ও ব্যয়, বাস্তবায়নাধীন কাজের পরিমাণ ও ব্যয় এবং অবশিষ্ট কাজের পরিমাণ ও ব্যয় পৃথকভাবে দেখাতে হবে। তাছাড়া অনুমোদিত ডিপিপির ওয়ার্ক প্ল্যান অনুযায়ী এ সময় পর্যন্ত কতটুকু কাজ হওয়ার কথা ছিল, তার বিপরীতে কতটুকু কাজ হয়েছে, কম হয়ে থাকলে তার কারণ পিইসি সভায় পর্যালোচনা করা যেতে পারে বলে মত দেয়া হয়েছে। সভায় আরও বলা হয়েছে, মুদ্রার বিনিময় হারের কারণে প্রকল্প সাহায্য কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে পূর্ত কাজের পরিমাণ কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু কোনো কোনো পূর্ত কাজের (সড়ক পুনর্বাসন) পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। মূল অনুমোদিত প্রকল্পের কোনো স্কিম বাদ দিয়ে নতুন স্কিম গ্রহণ করা যৌক্তিক নয়। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, ডিপিপিভুক্ত কোনো কোনো সড়ক ইতিমধ্যেই অন্যান্য প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়ে যাওয়ায় সেগুলো বাদ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বৈদেশিক অর্থের সম্পূর্ণ ব্যবহারের জন্য পুনর্বাসন কাজ বাড়ানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরো খবর