ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ || ৩ শ্রাবণ ১৪২৬
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন
২৯

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের শঙ্কায় পার্বত্য জেলায় মাইকিং

প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০১৯  


টানা বর্ষণে চট্টগ্রামসহ পার্বত্য জেলাগুলোতে পাহাড়ধসের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রাণহানি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশের আবাস ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। গতকাল রবিবার চট্টগ্রামে ৩৪টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।  এদিকে সাগর অশান্ত থাকায় আজ সোমবারও দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় গত দুই দিন ধরে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি ঝরছে। তবে চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চলে তুলনামূলক বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। গতকাল রবিবার বরিশালের খেপুপাড়ায় সর্বোচ্চ ১৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া কর্মকর্তা ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর বর্ধিতাংশ ছড়ানো উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। এর প্রভাবে দেশের প্রায় সব বিভাগেই আগামী দুই দিন হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। আবহাওয়া অফিস থেকে ভারি বর্ষণের আলাদা করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আজ সোমবার বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারি বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়া কর্মকর্তা আবদুর রহমান খান বলেন, উত্তর বঙ্গোপসাগরে এখন বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাবে। এ জন্য সমুদ্রবন্দরকে স্থানীয় তিন নম্বর সতর্ক সংকেত অব্যাহত রাখা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের শঙ্কা বাড়তে থাকায় সতর্কবার্তা জারির পরও সরে না যাওয়ায় গতকাল দুপুরে নগরের খুলশীর জালালাবাদ হাউজিংসংলগ্ন মধুশাহ পাহাড় এলাকা থেকে ৩৪টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান, ফোরকান এলাহী অনুপম, সাবরিনা আফরিন মুস্তাফা ও মো. তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৬৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরো ভারি এবং অতিভারি বর্ষণের সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান জানান, টানা তিন দিনের প্রবল বর্ষণ ও উজানে ভারি বৃষ্টির কারণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে শঙ্খ ও মাতামুহুরী নদী গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে বিপত্সীমার এক ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধস এবং নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় জানমালের ক্ষতি এড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। থানচি উপজেলা প্রতিনিধি জানান, শঙ্খ নদী ও সন্নিহিত পাহাড়ি ঝিরিগুলোতে পানির স্রোতের তীব্রতা ও যাতায়াতের পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকার পর্যটন স্পটগুলোতে না যেতে পর্যটকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক মৃদুল জানান, নিষেধাজ্ঞা আরোপ নয়, পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে তাদের প্রতি স্পটগুলোতে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী জানান, শহর এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বসবাসকারীদের পর্যায়ক্রমে সরিয়ে আনা হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, ভারি বর্ষণের ফলে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশ ও কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী স্থানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সতর্ক থাকা ও আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ। গতকাল বিকেলে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ভারি বর্ষণের কারণে পুরো রাঙামাটি জেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শহরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরো খবর