ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ || ৫ পৌষ ১৪২৫
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন

গদি টেকাতে কর স্থগিত

প্রকাশিত: ৫ ডিসেম্বর ২০১৮  


কমানোর উপায়ও। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আগামী জানুয়ারি থেকে জ্বালানির ওপর কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ছিল সরকারের। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে ফ্রান্স সরকার। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড ফিলিপ জ্বালানির ওপর কর আরোপ ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘করের মতো ইস্যু জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে না।’ একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘোষণার আগে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে তা ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ ভেস্তে যায় বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে। অবশ্য আন্দোলনকারীদের দুই নেতা দাবি করেছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় যেতে চাওয়ায় বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে তাঁরা প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন। এর আগে দেশটির গণমাধ্যম জানায়, বাড়তি কর স্থগিতের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড ফিলিপ মঙ্গলবার এমন কিছু পদক্ষেপ জানাবেন, যেগুলো নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় কমতে সহায়ক হবে। এই সিদ্ধান্তগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটি স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়ংকর সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছে। ফ্রান্সের অধিকাংশ গাড়ি ডিজেলনির্ভর। অথচ গত এক বছরে দেশটিতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বেড়েছে গড়ে ২৩ শতাংশ। চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকের পর দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম এখনই সবচেয়ে বেশি। বিশ্ববাজারে তেলের দাম হ্রাস পেলেও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির ব্যয় মেটানোর অজুহাতে সম্প্রতি হাইড্রোকার্বন কর বাড়িয়েছে ম্যাখোঁ সরকার। চলতি বছর প্রতি লিটার ডিজেলের ওপর ৭.৬ সেন্ট এবং প্রতি লিটার পেট্রলের ওপর ৩.৯ সেন্ট হারে করারোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী জানুয়ারিতে ডিজেলে ৬.৫ সেন্ট ও পেট্রলে ২.৯ সেন্ট হারে কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। জানুয়ারি থেকে বাড়তি এই করারোপের ওপর ছয় মাসের স্থগিতাদেশের কথা গতকাল জানালেন প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ১৭ নভেম্বর থেকে ফ্রান্সে আন্দোলন চলছে। এ কর্মসূচিতে ট্যাক্সিচালকদের ব্যবহৃত ইয়েলো ভেস্ট পরে অংশ নিচ্ছে আন্দোলনকারীরা। এ কারণে এ প্রতিবাদটি ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ছোড়ে। আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। দফায় দফায় এ সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর এ আন্দোলনে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হওয়ার খবর মিলেছে। গত শনিবারের ঘটনায় মোট ৪১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এখনো কারাগারে আছে ৩৬৩ জন। 


এই বিভাগের আরো খবর