ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ || ৫ পৌষ ১৪২৫
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন
১১

কৃত্তিম স্তন প্রতিস্থাপনে বাড়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি!

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  


দেওয়া হচ্ছে "টেক্সচার্ড" সিলিকন ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার না করতে। কারণ কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখেছে- এর সঙ্গে বিরল এক ধরনের ক্যান্সার হওয়ার যোগসূত্র রয়েছে। ব্রিটিশ নারীরা এখনো এই ধরনের ইমপ্ল্যান্ট করে স্তনকে নিটোল বা আকর্ষণীয় করে তুলছেন। এবং দেশটিতে এটি বন্ধের জন্য যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের কোনও সতর্কতামূলক নির্দেশনা নাই। ওষুধ এবং স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত পণ্য নিয়ন্ত্রণকর্তৃপক্ষ (এমএইচআরএ)-এর মুখপাত্র বলেন, আমরা জানি সিলিকন ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট নিয়ে একধরনের উদ্বেগ রয়েছে- আমরা এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। এই পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহারের নিরাপত্তা বিষয়ে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় এবং আমেরিকা ও ইউরোপে এক দশকের বেশি সময় ধরে তা ব্যবহৃত হচ্ছে। গত ২০ বছর ধরে স্তন ক্যান্সার জ্যানেট ট্রিলাওনির। অতপর তার স্তন কেটে ফেলা দেওয়া হয়েছিল। এরপর টেক্সচার্ড ইমপ্ল্যান্ট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল তার স্তন। এখন তার ডায়াগনোসিস চলছে। এখন তার ব্রেস্ট ক্যান্সার নয়, কিন্তু ইমিউন সিস্টেমে একধরনের ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি স্কার টিস্যুতে এবং ইমপ্ল্যান্টের কাছে তরলের মধ্যে পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে যেতে পারে। জ্যানেট ট্রিলাওনি বলেন, এটা ভাবা আতঙ্কজনক ছিল যে আমি নিশ্চয়ই কিছু করেছি, যার কারণে এর আগে আমার ক্যান্সার হয়েছিল এরপর আবার নতুন করে ক্যান্সারে দেখা দিল। তিনি বলেন, আমি পুরোপুরি হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। আমি আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছিলাম এবং কোনও ধারনাই ছিল না যে এমনটা ঘটতে পারে। জ্যানেট এখন আরও বায়োপসি রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন এবং তাকে বলা হয়েছে যে তার ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য তাকে কেমোথেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা: ফ্রান্সে ২০১১ সাল থেকে ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট বিষয়ে পরীক্ষা চলছে, যখন তারা বিআইএ- এএলসিএল-এর রিপোর্ট পেতে শুরু করে। ইমপ্ল্যান্টের পর ঝুঁকি সারা বিশ্বেই রয়েছে তবে তা ছোট-খাটো বলে মনে করা হয়। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে এমএইচআরএ স্তন ইমপ্ল্যান্ট করা নারীদের সম্পর্কে ৫৭টি রিপোর্ট পায় এএলসিএল-এর, তার মধ্যে ৪৫ জনকে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ধারনা করা হয় যে, বিআইএ-এএলসিএল এর ঝুঁকি আনুমানিক ২৪,০০০ইমপ্ল্যান্টের ঘটনার মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে হয়। ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্টবিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ ডক্টর সুজানে টার্নার বলেন, এটা একটা উদ্বেগরে বিষয় অবশ্যই বিশেষ করে এখন আমরা যেটা দেখছি এইসব নারীদের মধ্যে এটা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ঝুঁকি কম কিন্তু তারপরও এটা একটা ঝুঁকি যার সম্পর্কে অমাদের জানা উচিৎ এবং জানানো উচিৎ। ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের জন্য ২০১৬ সালে নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয় কিন্তু সেখানে এখনো স্বতপ্রণোদিত হয়ে অল্পসংখ্যক নিবন্ধন করছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্ল হেনেঘান বলেন, এই বিষয়ে ক্যাম্পেইনাররা গত ২৫ বছর ধরে নিবন্ধনের জন্য দাবি তুলে আসছে। প্রতি ইমপ্ল্যান্ট নিবন্ধনের আওতায় আসা উচিৎ কারণ এটি রোগীর স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তাকে সংজ্ঞায়িত করে। আর তা না থাকলে আমরা অন্ধকারেই থেকে যাবো। তথ্যসূত্র: বিবিসি।