ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ || ৫ পৌষ ১৪২৫
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন
২৯

কৃতিক মধু সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  


উপজেলার সাঙ্গর গ্রামের শেখ সুন্দর আলীর ছেলে জমির আলী এবং চনু মিয়ার ছেলে মোশারফ হোসেন তেমন লেখাপড়া করতে পারেননি। কৃষিকাজই তাদের পেশা। আবার খুব একটা জমিও নেই তাদের। তাদের বয়স যখন ২০/২২ বছর তখন গ্রামে এক লোক এসে চাক ভেঙে মধু সংগ্রহ করেন। এই মধু সংগ্রহ পদ্ধতি দেখে জমির ও মোশারফ সিদ্ধান্ত নেন গ্রামে গ্রামে গিয়ে তারাও মধু সংগ্রহ করবেন। মধু সংগ্রহের পাত্র এবং ধোঁয়া দেওয়ার উপকরণ সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তারা। শুরুতে খুব একটা সফল না হলেও এখন তারা প্রাকৃতিক মধু সংগ্রহকারী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। লোকজন চাক দেখলেই জমির-মোশারফকে মোবাইলে খবর দেন। আবার মধুর ক্রেতারা যোগাযোগ রাখেন কখন চাক ভাঙতে যাবেন তারা। পরে তাদের সঙ্গে গিয়ে ক্রেতারা খাঁটি মধু সংগ্রহ করেন। কয়েক দিন আগে হবিগঞ্জ শহরের পাশেই শচীন্দ্র ডিগ্রি কলেজের পাঁচটি চাক ভাঙেন জমির-মোশারফ। সেখানে ভালোই মধু ,মেলে তাদের। সে সময় তাদের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। জমির আলী জানান, ছোটবেলায় দেখে দেখে তারা এই কাজ শিখেছেন। তাদের গ্রামের দুজন এবং ইকরাম গ্রামের দুজন এই পেশায় নিয়োজিত। যখন খবর পান মধুর চাক আছে তখন তারা সেখানে গিয়ে ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছিকে তাড়িয়ে দিয়ে মধু সংগ্রহ করেন। অনেক সময় মৌমাছি তাদেরকে হুল ফোটায়। তখন মধু খেয়ে ফেললে খুব একটা প্রভাব আর থাকে না। জমির আরও জানান, মধু নামানোর পর দুই ভাগ করে এক ভাগ দেওয়া হয় মালিককে এবং এক ভাগ তারা নিজেরা এনে বিক্রি করেন। অনেক সময় একটি চাকে এক থেকে দুই কেজি মধু হয়। এমনও হয়েছে, একটি চাক থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া গেছে। ছয় শত টাকা দরে তারা এই মধু বিক্রি করে থাকেন। মোশারফ জানান, সারা বছর মধু পাওয়া যায় না। বরই ফুলের মধু, লিচু ফুলের মধু এবং সরিষা ফুলের মধু তারা সংগ্রহ করেন। মধুর পাশাপাশি উপজাত হিসেবে মোমও সংগ্রহ করেন তারা। এই মোম দুই শত টাকা কেজি হিসেবে ফার্নিচার এবং স্বর্ণকারের দোকানে তারা বিক্রি করেন। মোশারফ আরও জানান, পাঁচ বছর ধরে তারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত। বছরে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় হয় তাদের। এ পর্যন্ত হাজারের অধিক চাক থেকে মধু সংগ্রহ করেছেন তারা। হবিগঞ্জের সব গ্রামেই মধুর চাক পাওয়া যায়। জেলার সব উপজেলা, এমনকি পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায়ও যান তারা মধু সংগ্রহ করতে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল জানান, হবিগঞ্জের হাওর ও পাহাড়ি এলাকায় বনাঞ্চলে একসময় প্রচুর মধু পাওয়া যেত। অপরিকল্পিতভাবে বনাঞ্চল উজাড়ের ফলে প্রাকৃতিক এই মধু কমে যাচ্ছে। এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদন করছেন। পরিকল্পনা গ্রহণ করলে যেমন মধু উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, তেমনিভাবে কর্মসংস্থান হবে অনেক লোকের। সরকারি বৃন্দাবন কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সুভাষ চন্দ্র দেব জানান, মধু একটি সর্বোৎকৃষ্ট ওষুধি ও পুষ্টিকর খাবার। প্রকৃতি ধ্বংস না করলে মধু উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি মধু সংগ্রহকালে মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়নের ফলে উদ্ভিদজাত ফসলেরও উৎপাদন বাড়বে। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফায়েল খান জানান, এই মৌসুমে হবিগঞ্জের হাওর এলাকায় ব্যাপকভাবে সরিষা আবাদ হচ্ছে। বিশেষ করে লাখাই উপজেলায় সরিষার আবাদ বেশি হয়। সেখানে অনেকেই মৌমাছির বাক্স নিয়ে যান। ফলে মধু উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।


এই বিভাগের আরো খবর