ঢাকা, ২০ এপ্রিল, ২০১৯ || ৬ বৈশাখ ১৪২৬
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন
১৩

এ বছরই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় জনতা ব্যাংকের

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৯  


রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের বিভিন্ন সূচকে অর্জন ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। ব্যাংকের আমানত, ঋণ ও অগ্রিম, আমদানি ও রেমিট্যান্স বাড়ছে। কমে আসছে লোকসানি শাখাও। এ ছাড়া অনলাইন সুবিধার আওতায় এসেছে ব্যাংকের সব শাখা। তবে ক্রিসেন্ট ও এ্যাননটেক্স গ্রুপের ঘটনায় কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে ব্যাংকটি। তার পরও ব্যবসার সব ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের মাধ্যমে এ বছরেই ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক ব্যাবসায়িক সম্মেলনে এসব তথ্য উঠে আসে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের এমডি মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ। গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘আমাদের এক্সপোর্ট অরিয়েন্টেড হতে হবে। তাহলে দেশ শিল্পায়িত হবে। বড় বড় প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য জনতা ব্যাংকের অবদান প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তবে বর্তমানে ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততায় উন্নতি ও খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার ওপর জোর দেন।’ জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা বলেন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে মুনাফার বিষয়টি সম্পৃক্ত থাকলেও জনতা ব্যাংক সমগ্র দেশের কল্যাণে দায়বদ্ধ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমদানি, রপ্তানি, ফরেন রেমিট্যান্স, এসএমই খাতে ঋণসহ সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক কাজে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি। তিনি বলেন, জনতা ব্যাংক সর্বপ্রথম সরকার ঘোষিত ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে। এতে সামগ্রিক মুনাফা অর্জনে কিছুটা প্রভাব পড়লেও আমরা তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছি। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ৯৬৪ কোটি টাকা অর্জিত হয়েছে এবং ২০১৯ সালে ১৪০০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যাংকের সব শাখায় অনলাইন ব্যাংকিং চালু রয়েছে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং লেনদেন ও সেবা অধিকতর নিরাপদ ও সাইবার হুমকি মোকাবেলায় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা উন্নীতকরণসহ সমসাময়িক প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়েছে জনতা ব্যাংক। শিগগিরই ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, কল সেন্টার স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া সব ক্ষেত্রে করপোরেট সুশাসন, সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। মানসম্মত সেবা প্রদান এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কথাও জানান তিনি। ব্যাংকের এমডি মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন, ২০১৮ সালে জনতা ব্যাংকের আমানত দুই হাজার ৬১১ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায়। ঋণ ও অগ্রিম সাত হাজার ৪১৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৫৩ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। এ সময় ব্যাংকের লোকসানি শাখা কমে ৫৬টিতে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকের ব্যাবসায়িক সব সূচকে আমাদের অর্জন ইতিবাচক হলেও বৃহৎ দুটি গ্রুপভুক্ত ঋণখেলাপি হয়ে পড়ায় আমরা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছি। এ দুটি গ্রুপের কারণেই ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে অর্থঋণ আদালতে আমরা মামলা করেছি এবং এননটেক্স গ্রুপের ঋণ আদায় এবং নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এ বছরই আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছি।


এই বিভাগের আরো খবর