ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ || ৩ শ্রাবণ ১৪২৬
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন
২৯৩

এভাবে আর কত দিন

প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫  


অবরোধ চলছেই। সরকারি তরফ থেকে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নেই। উল্টো আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা প্রতিদিন বলে যাচ্ছেন সংলাপ হবে না। বিরোধীদের অবরোধ বন্ধেরও উদ্যোগ নেই। ফলে বাড়ছে প্রাণহানি ও অস্থিরতা।

শুক্রবারও সরকার ও বিরোধী পক্ষে পরস্পরকে আক্রমণ করে বক্তব্য-বিবৃতি অব্যাহত ছিল। বিএনপির নেতা রিজভী বলেছেন, রক্ষীবাহিনীর প্রেতাত্মা তাণ্ডব চালাচ্ছে সারা দেশে। বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার পথে বাংলাদেশ।

দলীয় নেতাদের বাইরে বিজিবি মহাপরিচালক, পুলিশের আইজি ও র্যা ব-প্রধান রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার বিজিবি-প্রধান বলেছেন, ‘আক্রান্ত হলে অস্ত্র চালাবে বিজিবি’। শুক্রবার রংপুরে আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক অঙ্গীকার করেছেন, বুকের রক্ত দিয়ে পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করবে। এবার আর কেউ পার পাবে না। র্যা বের ডিজি বেনজীর আহমেদ বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের পরেই নির্বাচন।

সব মিলিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। দুই পক্ষেরই যুদ্ধংদেহী মনোভাব। গাড়ি পুড়ছে, মানুষ পুড়ছে। সরকার নির্বিকার। সরকার ভাবছে একসময় সবকিছু থেমে যাবে। বিরোধী দল ভাবছে এভাবে চলতে চলতে সরকার একসময় পড়ে যাবে।

এ অবস্থায় তৎপর হয়েছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। দেশের অবস্থা স্বাভাবিক করতে তাদের এই চেষ্টা বলে দাবি করেছেন কোনো কোনো কূটনীতিক। তবে এসব বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে চাচ্ছেন না কেউ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খানের গুলশানের বাসায় বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত পশ্চিমা আটটি দেশের কূটনীতিকরা। আবার একই সময়ে ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণের বাসায় নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ও তার ভাই সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের।

এদিকে শুক্রবার জাতিসংঘ বাংলাদেশের সহিংসতা নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। বাংলাদেশের অব্যাহত রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ব সংস্থাটির মানবাধিকার কমিশন কড়া ভাষায় একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও আটকের ক্ষেত্রে সরকার যেন স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় না নেয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেয়া সব পদক্ষেপে যেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন না ঘটায়, সেজন্য সরকারকে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয় বিবৃতিতে।

পরিস্থিতি জটিল। এটা সবাই বুঝছে। কিন্তু সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছে না। সংকট থেকে বের হওয়ার পথ যেন বন্ধ। এভাবে কত দিন চলবে কেউ জানে না। শেষ পরিণতি কী, তাও সবার অজানা। তবে সবাই মনে করে সমাধানের একটাই পথ- আলোচনা ও সংলাপ। সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরী শুক্রবার যেমন বলেছেন, সংলাপ না হলে সংকট বাড়বে। আমরাও মনে করি সংলাপ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। বিএনপি আলোচনা চাইছে। চলমান পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার বিরোধী দলের এই চাওয়াকে কাজে লাগাতে পারে। আর তার জন্য সরকারকে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। কারণ সরকারেরই দায়িত্বটা বেশি।