ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ || ৩ শ্রাবণ ১৪২৬
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন
১৫

এখান থেকে দারুণ স্মৃতি নিয়ে ফিরুক : স্টিভ রোডস

প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০১৯  


আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচও বাংলাদেশ দলের জন্য বিশেষ ব্যাপার হয়ে উঠেছে ভেন্যু লর্ডস হওয়ায়। ভারত ম্যাচেই সেমিফাইনাল সম্ভাবনা বিলীন হয়ে গেলেও তাই আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশেষ কিছু করারই তাড়না তাদের। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এসে হেড কোচ স্টিভ রোডসও বলে গেলেন সেসব কথাই।  প্রশ্ন : লর্ডসে আট ম্যাচের মধ্যে চতুর্থ জয়টি পেতে মুখিয়ে আছেন নিশ্চয়ই? স্টিভ রোডস : দারুণ সুন্দর লর্ডসে একে অন্যকে হারানোর জন্য দুই দলই মরিয়া হয়ে আছে। আমরা যেমন, তেমনি পাকিস্তানও। অবশ্যই আমরা জিততে চাই। ভারতের কাছে হেরে ছিটকে পড়ার পরও আরেকটি বিশেষ উপলক্ষ রয়ে গেছে আমাদের। কারণ খেলাটি হচ্ছে লর্ডসে। যেখানে হারানো ভীষণ কঠিন, এমন একটি দলের বিপক্ষে নামছি আমরা। যদি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারাতে পারি, তাহলেও ছেলেদের নিয়ে দারুণ গর্ব করার মতো ব্যাপারই হবে সেটি। প্রশ্ন : নিউজিল্যান্ডকে টপকে সেমিফাইনালে যেতে বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশকে হারাতে হবে পাকিস্তানের। শুধু তা-ই নয়, ব্যাটিং করতে হবে আগে। এই অবস্থায় আপনারা টস জিতলে কী সিদ্ধান্ত নেবেন? রোডস : কৌশলগত বিষয়ে খুব বেশি তথ্য দেওয়ার লোক আমি নই। কাজেই আমি টস জিতলে কী করব, সেটি আপনাদের বলব না। প্রশ্ন : পাকিস্তান ম্যাচে কি আপনারা অল আউট খেলবেন? রোডস : হ্যাঁ, তাই। ক্রিকেট খেলাটি কিভাবে খেলতে হবে, তার একটি উপায়ই জানা আছে আমার। সেটি হলো জেতার জন্য খেলা। আমি এও জানি যে ছেলেরা খুব মরিয়া হয়ে আছে এই ম্যাচটি জিততে। তাই বলে ম্যাচটি কেউ হালকাভাবেও নিচ্ছে না। কারণ এটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং দুর্দান্ত এক প্রতিপক্ষকে আমরা পাচ্ছি বিশ্বকাপের মতো আসরে। এই ম্যাচ জিততে বাংলাদেশ তাদের সেরাটিই উজাড় করে দেবে। প্রশ্ন : মাশরাফির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ এটি। তাতে ড্রেসিংরুমে আবেগের হাওয়া বয়ে যাচ্ছে কেমন? রোডস : ওর প্রতি খেলোয়াড়দের শ্রদ্ধা অবিশ্বাস্য পর্যায়ের। আমি প্রায়ই একটি শব্দ ব্যবহার করি। সেটি হলো ‘যোদ্ধা’। ও দলের জন্য যুদ্ধেই নামে। মানুষও সেটি জানে। জানে বলেই ওকে ভালোবাসেও। তবে আমার কাজ হলো ম্যাচে মনোযোগ রাখা। নিশ্চিত যে ছেলেরাও ওকে যথাযথ শ্রদ্ধা দিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় জানাতে চাইবে। তবে সে জন্য ম্যাচে মনোযোগ রাখাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।  প্রশ্ন : মুশফিকের চোটের কী অবস্থা? রোডস : নেটে কুনইতে হালকা চোট পেয়েছে সে। ফিজিওর সঙ্গে অবশ্য এখনো কথা হয়নি আমার। তবে যে জায়গায় চোট লেগেছে, তাতে ব্যাপারটি গুরুতর হওয়ার কথা নয়। সুতরাং আশা করছি মুশি ঠিকই আছে। প্রশ্ন : লর্ডস সব খেলোয়াড়ের মনেই বিশেষ মর্যাদা নিয়ে থাকে। তা ড্রেসিংরুমে ঢোকার পরই কেমন রোমাঞ্চ ছুঁয়ে গেল তাঁদের, বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের? রোডস : বাস থেকে নেমে গেট দিয়ে ঢোকামাত্রই ওরা উপভোগ করতে শুরু করেছিল। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় পেইন্টিংগুলোতে চোখ চলে যাচ্ছিল ওদের। এরপর চেঞ্জিং রুমে যাওয়ার পথে অনার্স বোর্ডও দেখছিল। যেখানে এই মাঠের টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান ও ৫ উইকেট নেওয়া বোলারদের নাম আছে। কেউ কেউ তো সোজা ব্যালকনিতে চলে গিয়ে দেখছিল ওদের চোখের সামনের অসাধারণ দৃশ্যও। এসবই করার কথা আসলে। কারণ ক্রিকেট খেলার জন্য এটি তো অন্যতম সেরা জায়গাই। আশা করছি, আগামীকাল (আজ) এখান থেকে দারুণ স্মৃতি নিয়েই ফিরবে ওরা। কেউই হারতে পছন্দ করে না। তাই হারলে সেই স্মৃতি ভুলেই যেতে চায়। কিন্তু লর্ডস এমন বিশেষ একটি জায়গা যে আপনি কখনোই ভুলতে পারবেন না। এখানে খেলতে পারা তাই সৌভাগ্যের ব্যাপারও। প্রশ্ন : এটি এখন স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ। তবে বাংলাদেশের জন্য মর্যাদার লড়াইও। এই ম্যাচের আগে কোন জায়গায় উন্নতির চিন্তা আপনার? রোডস : ভারত ম্যাচের দিকে যদি তাকান, তাহলে ফিল্ডিংয়ে প্রথম ২০ ওভার মোটেও ভালো করিনি আমরা। এটি আমাদের বাজে দিক। কাজেই এই জায়গাটিতে উন্নতির ব্যাপার আছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে যদি আমরা ভালো শুরু করতে পারি, তাহলে আমাদের আর খেলায় ফেরার ভাবনা ভাবতে হবে না। ভারত ম্যাচে যেটি হয়েছিল। শুরুটাই আমাদের চিন্তার জায়গা। এই জায়গায় (বোলিংয়ে) আমরা ভালো শুরু চাই।  প্রশ্ন : বিশ্বকাপের সেরা পারফরমার সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? রোডস : ওর সঙ্গে কাজ করতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। একই সঙ্গে সে বিস্ময়কর একজন মানুষ ও খেলোয়াড়। আমার কাছ থেকে কোনো অনুপ্রেরণা নেওয়া লাগে না ওর। এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে যা করেছে, সব কৃতিত্বই ওর। এই আসরে ভালো করার জন্য মরিয়া ছিল সে। যখন আপনি কিছু রান করে ফেলেন, তখন অনেকের মধ্যেই এই ব্যাপারটি একরকম চলে আসে যে পরের ম্যাচে রান না করলেও চলবে। কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গিটা এমন হওয়া উচিত নয়। বরং এভাবেই ভাবা উচিত যে পরের ম্যাচেও কেন নয়? সাকিব ঠিক এভাবেই ভাবে এবং কাজ করে। শুধু ব্যাটিংই নয়, সাকিব বোলিংয়েও ওর কাজটি ঠিকঠাক করে দিয়েছে। ওকে তাই বিস্ময়কর চরিত্র বলতেই হয়।