ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ || ৫ পৌষ ১৪২৫
bbp24 :: বরেন্দ্র প্রতিদিন
১০

আরো নতুন বাজার খুঁজতে হবে

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  


পোশাকের প্রধান ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নও যদি শুল্ক ও কোটা মুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার করে তাহলে এই খাত কিছুটা অসুবিধায় পড়বে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এমন আশঙ্কার মধ্যে কিছুটা হলেও সুখবর নিয়ে এসেছে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে জাপান, ভারত ও রাশিয়ায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৫ শতাংশ। এ সময় তিনটি দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৬৭ কোটি ২৮ লাখ ডলারের। দেশগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান এই গতি ধরে রাখা গেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাবে বলেই পোশাক খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিশ্বাস। বাণিজ্য-সুবিধা পাওয়া গেলে ভালো। কিন্তু সুবিধার নামে কেউ যদি রাজনৈতিক বা অন্যান্য ফায়দা নিতে চায়, তা থেকে সাবধান থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি না থাকলেও সেখানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ক্রমে বাড়ছে। প্রতিযোগিতা করেই বাংলাদেশ সেখানে টিকে রয়েছে এবং প্রবৃদ্ধি করছে। ইউরোপের বাজারেও বাংলাদেশ টিকে থাকবে বলেই বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তাই কোনো রাজনীতি বা শর্তের বেড়াজালে আটকা পড়া থেকে সাবধান হতে হবে। এ জন্য কোনো বিশেষ বাজারের প্রতি অতি-নির্ভরশীলতা কাটাতে হবে। নতুন নতুন বাজারের সন্ধান করতে হবে। শর্তহীন বাজারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে জাপানের বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৭ শতাংশের বেশি এবং ভারতের বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১৫ শতাংশের বেশি। আরো অনেক দেশেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক যেতে শুরু করেছে। উপযুক্ত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব রপ্তানি বাড়াতে হবে। শুধু তৈরি পোশাকই নয়, অন্যান্য পণ্য রপ্তানির দিকেও আমাদের সমান উদ্যোগী হতে হবে। বাংলাদেশের ওষুধ এখন দেড় শতাধিক দেশে রপ্তানি হয়। চামড়াজাত পণ্য ও প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানিও বাড়ছে। বাড়ছে মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিক পণ্য, সফটওয়্যারসহ আরো অনেক পণ্যের রপ্তানি। সেবা খাতের রপ্তানিও বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তাই আমাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবেই।